শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা।।
প্রায় দেড়যুগ পর আগামীকাল ২৪ নভেম্বর’১৯ রবিবার পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রে প্রকাশ, বিগত ২০০৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাই আগামীকাল রবিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনকে ঘিরে পাইকগাছা প্রবেশদ্বার কাশিমনগর থেকে শুরু করে পাইকগাছা পৌরসভা পর্যন্ত প্রধান সড়কের উপর নির্মিত হয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত তোরণ। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সম্মেলন স্থল ও মঞ্চ। দলের হাল ধরতে আগ্রহী ও নেতৃত্ব প্রত্যাশী (সভাপতি/সম্পাদক) কয়েকজন নেতা ডেলিগেট ও কাউন্সিলরদের সমর্থন আদায়ে, তৃণমূলে গিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় শুভেচ্ছা বিনিময় করায় যেমন নেতা কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তেমনি দলে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করায় রয়েছে ক্ষোভ ।
দলের নিবেদিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহি মুলক শক্তিশালী কমিটি গঠনে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা থাকলেও সকলের কাছে গ্রহন যোগ্য একটি কমিটি গঠন হবে বলে তারা আশাবাদী। সভাপতি পদ প্রত্যাশী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ মোঃ নূরুল হক, প্রবীণ ব্যাক্তিত্ব উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী ও সাবেক এম,এল,এ শহীদ এম.এ গফুর এর পুত্র আনোয়ার ইকবাল মন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা তরুণ্যের ঝলক আনন্দ মোহন বিশ্বাস ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দীন ফিরোজ বুলু’র নাম শোনা যাচ্ছে।
সম্মেলনকে ঘিরে স্থাণীয় নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে অঘোষিত দু’টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। উর্ধতন নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় সমঝোতার ভিত্তিতে তৃণমূলের (ডেলিগেট, কাউন্সিলর) সমর্থনে সভাপতি-সম্পাদক মনোনীত করা সম্ভব না হলে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হতে পারে। গ্রুপিং রাজনীতিতে স্ব-স্ব গ্রুপ তাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নিয়েছে সকল ধরনের প্রস্তুতি। ১০টি ইউনিয়ন একটি ও পৌরসভায় (প্রতি ইউনিয়নে ৩১জন করে) ৩৪১জন উপজেলা আহবায়ক কমিটির ৫৩ ও জেলা নেতৃবৃন্দের মধ্য থেকে ১৫জন সহ মোট ৪০৯ জন কাউন্সিলরের তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাউন্সিলররা তাদের পছন্দের নেতা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ ছাড়া প্রতি ইউনিয়ন থেকে ৪০জন করে মোট ৪৪০জন ডেলিগেট রাখা হয়েছে, প্রয়োজনে তাদের মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করবেন।
সম্মেলন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামান বলেন, সম্মেলন সফল করার লক্ষে সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে না হলে কেন্দ্র থেকে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করার নির্দেশনা রয়েছে। আর এটি গণতান্ত্রিক পন্থা। তিনি সম্মেলনে স্বচ্ছতার সহিত কমিটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, সম্মেলন কিভাবে হবে তা কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী উপস্থিত উর্ধতন নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবেন। প্রায় দেড়যুগ পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে স্বচ্ছতার সহিত কর্মী বান্ধব, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এ প্রত্যাশায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে।